
ফিফা ২০২৬
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের গত তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন জোয়াকিম ক্লেমেন্ট নামের এক জার্মান অর্থনীতিবিদ। প্যানমিউর লিবারিয়াম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের এই কর্মকর্তা এবারও পুরুষদের আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এক চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন। তাঁর বিশেষ গাণিতিক ও অর্থনৈতিক মডেলের হিসাব বলছে, তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি না পাওয়া নেদারল্যান্ডসই এবার উঁচিয়ে ধরবে বিশ্বকাপের সোনালী শিরোপা।
মজার ছলে শুরু, টানা তিনবার মিল
২০১৪ সালে অর্থনীতিবিদদের ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস’ নিয়ে রসিকতা করতে ক্লেমেন্ট এই মডেলটি বানিয়েছিলেন। কিন্তু অলৌকিক বা গাণিতিক সত্য যাই হোক না কেন, তাঁর মডেল মিলিয়েই গত তিনটি বিশ্বকাপে যথাক্রমে জার্মানি, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়।
যেসব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি মডেল
এই গণনা কেবল ফুটবল দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না। এতে একটি দেশের মাথাপিছু জিডিপি, মোট জনসংখ্যা, স্বাগতিক সুবিধা, ফিফা র্যাঙ্কিং এবং ফুটবলের জন্য আদর্শ আবহাওয়া বা গড় তাপমাত্রার (১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মতো নানা বিষয় একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়।
কেন এবার এগিয়ে নেদারল্যান্ডস
ক্লেমেন্টের বিশ্লেষণে ডাচদের পক্ষে রয়েছে তাদের ১ কোটি ৮৪ লাখ জনসংখ্যা, ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তা, ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা, ৭৭ হাজার ডলার মাথাপিছু জিডিপি এবং সাম্প্রতিক মাঠের দুর্দান্ত ফর্ম।
ফাইনালে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি
মডেল অনুযায়ী, এবারের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগাল।
সবচেয়ে বড় নিয়ামক ‘ভাগ্য’
ক্লেমেন্টের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে গুণগত পার্থক্যের চেয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ ফলাফল ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। আর সেই ভাগ্যের সামান্য ছোঁয়াতেই ডাচরা পর্তুগালকে টেক্কা দেবে।
তবে এই অর্থনীতিবিদ নেদারল্যান্ডসকে সবার ওপরে রাখলেও আন্তর্জাতিক বাজিকর ও পলিমার্কেটের চোখে ডাচরা এখনও অষ্টম ফেভারিট। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী শিরোপার দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
সব মিলিয়ে, ক্লেমেন্টের এই গাণিতিক গণনা কি এবারও হ্যাটট্রিক পেরিয়ে চতুর্থবারের মতো সত্যি হবে, নাকি বাজিকরদের অনুমানই শেষ হাসি হাসবে—তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।