
জুনের মাঝামাঝি শুরু হওয়া বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবে না। এর পরিবর্তে তারা মেক্সিকোতে থেকে ম্যাচের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবে। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ইরান দলের দেশটিতে অবস্থানকে সমর্থন না করায় আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যদিও ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সংবাদ সম্মেলনে শেইনবাউম বলেন, ‘মেক্সিকোতে অবস্থান করার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরান ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে—দুটি ম্যাচই লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলবে। এরপর ২৬ জুন মিশরের বিপক্ষে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ হবে সিয়াটলে।
এদিকে, এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানকে স্বাগত জানানো হবে। তবে নিরাপত্তার কারণে পুরো সময় ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা উপযুক্ত হবে না বলে তিনি মনে করেন।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ শনিবার জানান, দলের নির্ধারিত ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায় নেওয়া হবে। সোমবার ফিফাও এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তাজ বলেন, এই সিদ্ধান্তে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং ইরান থেকে সরাসরি বিমানে মেক্সিকোতে আসাও সহজ হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দল খেলতে যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
মার্চে মেহদি তাজ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইরানের গ্রুপ ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান। সে সময় প্রেসিডেন্ট শেইনবাউমও প্রয়োজনে ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ফিফা শেষ পর্যন্ত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক দূত পাওলো জামপোল্লি মন্তব্য করেন যে, ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে ইতালীয় কর্মকর্তারা এবং ফিফা সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়নি।
উল্লেখ্য, ইরান গত বছর এশিয়ান বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।