
ফলে প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই কার্যকর আছে, নাকি নতুন করে সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি
হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে আলোচনার জন্য ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কাতারে পৌঁছেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে যাতে ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দেওয়া যায়। তবে কোন কোন স্থানে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে।
এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে যখন ৮ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং চলমান সংঘাত শেষ করার বিষয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র যা বলছে
মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থল এবং সমুদ্রে মাইন বসানোর চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা জরুরি এবং সেখানে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’, তবে চুক্তি না হলে আরও হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেন।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা একটি ‘শত্রু ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।
সূত্র অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) সমুদ্রে একটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং এতে কয়েকজন নিহত হয়েছে।
আর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে চুক্তি খুব শিগগিরই হচ্ছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
কূটনৈতিক পরিস্থিতি
৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও অঞ্চলটিতে পূর্ণ শান্তি এখনো আসেনি। আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কাতারের দোহায় পৌঁছেছে, যেখানে স্থায়ী শান্তি চুক্তির অমিমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
চীন সফরে থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও এই সংকটে আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই হামলা চলমান শান্তি আলোচনাকে আবারও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। মার্কিন প্রশাসন চুক্তি চাইলেও পরিস্থিতি এখনো খুবই অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তথ্যের ঘাটতি এবং সীমিত ব্যাখ্যা থাকায় এই হামলার প্রকৃতি ও পরিসর নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই কার্যকর আছে, নাকি নতুন করে সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি।