
লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক ধ্বনিতে আজ মুখরিত সৌদি আরবের আরাফার ময়দান
লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলুক লা-শরীকা লাক্। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই। আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত এবং রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।
‘তালবিয়া’ নামক এই দোয়া বা ধ্বনিতে আজ মুখরিত সৌদি আরবের আরাফার ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে সারাবিশ্ব থেকে আসা ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মঙ্গলবার (২৬ মে) ইহরাম বেঁধে সমবেত হয়েছেন ঐতিহাসিক এই প্রান্তরে।
ভোর থেকেই হাজিদের কাফেলা জাবালে রহমত বা দয়ার পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সমবেত মুসল্লিরা সেখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনায় দুই হাত তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এতে পুরো আরাফাজুড়ে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় হাজিরা শান্তিপূর্ণভাবে আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরাফায় ভিড় সামলাতে এবং হাজিদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল।
ইসলামে ইতিহাস অনুযায়ী, জাবালে রহমত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ সা. এখানেই তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি হজের সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শন এবং আরাফাত দিবসের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক, ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রোকন। এখানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণাঙ্গ হয় না।
মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফা ময়দান। প্রতিবছর হজের দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য মুখরিত হয়ে ওঠে পাহাড়বেষ্টিত জায়গাটি।
সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের সেবায় পুরো আরাফা এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো পুরোদমে চালু রয়েছে। ক্লিনিক ও অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ উদ্ধারকারী দলগুলো পাহাড়ের দুর্গম ও উঁচু স্থানে মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় তারা আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
দেশটির গৃহায়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর হাজিদের যাতায়াতের পথগুলো সুগম করতে প্রায় ৫ হাজার টাওয়ার ও পোলে ২০ হাজারেরও বেশি আধুনিক লাইট লাগানো হয়েছে। মক্কা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ লাখ লাইটিং ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে, যাতে রাতভর সেবা অব্যাহত থাকে।
সূর্যাস্তের পরপরই হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তখন চিরচেনা রূপে ফিরবে আরাফা, আবারও নীরব হয়ে যাবে এই প্রান্তর।