
ছবি: সংগৃহীত
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলের সীমান্তবর্তী আল-টিনা শহরে একটি জনাকীর্ণ বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকারি কর্মকর্তারা।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। বর্বরোচিত এ হামলার জন্য দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করা হচ্ছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আল-টিনা বাজারের একটি অংশ—যেখানে নারীরা খাবার ও চা বিক্রি করছিলেন, মূলত সেই জমায়েতটিকে লক্ষ্য করেই ড্রোন হামলাটি চালানো হয়। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেন, যার বেশিরভাগই ছিল নারীদের। স্থানীয় একজন সরকারি কর্মকর্তাও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হতাহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে এখনো কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। এই চলমান সংঘাতে দেশটিতে বহু বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে বাজারগুলোকে লক্ষ্য করে বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হলেও, আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি হতে পারে।
দারফুর অঞ্চলের আল-টিনা শহরটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চলতি বছরজুড়ে এটি আরএসএফের নিয়মিত হামলার মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শহরটিতে তীব্র দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে ও ক্ষুধার জ্বালায় ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী চাদসহ অন্যান্য দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন।