
ছবি: সংগৃহীত
বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের টিপরদি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে এই অবরোধের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। শ্রমিকদের এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের একটি অংশে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
কারখানা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৈতি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা এপ্রিল মাসের বকেয়াসহ মে মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস ঈদের আগে পরিশোধের দাবিতে দুপুরে মহাসড়কে নেমে আসেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা মালিকপক্ষ পুরো বেতন দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং তারা সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন। শ্রমিকরা রাস্তায় বসে পড়লে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টিপরদি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো যাত্রী ও চালকেরা।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধকারী শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করলে মহাসড়কের একটি অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও মালিকপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শান্ত করতে এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে, তবে কোনো গুলি চালানো হয়নি।” বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।