
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ইনজুরির কারণে দলের আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলো থেকে ছিটকে গেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই তারকা ফুটবলারের মাঠে নামা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার নেইমারের এই ইনজুরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার জানান, গ্রানজা কোমারিতে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর নেইমারের সব ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা ও এমআরআই স্ক্যান করানো হয়। স্ক্যানে দেখা গেছে, তাঁর ডান পায়ের কাফে কেবল ফোলাভাবই নয়, বরং ‘গ্রেড-টু’ ক্যাফ ইনজুরি রয়েছে। এই চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে নেইমারকে আরও অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হবে। তবে এই ইনজুরির কারণে নেইমারকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে এখনই বাদ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিবিএফের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার জাতীয় দলে যোগ দিলেও ডান পায়ের কাফে অস্বস্তি ও ফোলাভাবের কারণে বুধবারের প্রথম অনুশীলনে অংশ নেননি নেইমার। পরে তাঁকে তেরেসোপোলিসের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে স্ক্যানের জন্য পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ব্রাজিল দল ঘোষণার আগে নেইমারের বর্তমান ক্লাব সান্তোসের চিকিৎসক রদ্রিগো জোগাইব দাবি করেছিলেন—সমস্যাটি কেবল সামান্য ফোলাভাব এবং তিনি অনুশীলনের জন্য ফিট আছেন। তবে জাতীয় দলের মেডিকেল পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও গুরুতর চিত্র সামনে এলো।
এই ইনজুরির কারণে আগামী রবিবার ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না নেইমার। এছাড়া ক্লিভল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচেও তাঁর খেলা হচ্ছে না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের প্রথম তথা উদ্বোধনী ম্যাচেও নেইমারের খেলার সম্ভাবনা এখন খুবই ক্ষীণ। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে খেলবে, যেখানে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি এমনিতেই আগামী রবিবারের ম্যাচে একঝাঁক তারকা ফুটবলারকে পাচ্ছেন না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনাল ও পিএসজির হয়ে ব্যস্ত থাকায় ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মার্কিনিওস এবং ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি আপাতত জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। তার ওপর নেইমারের এই আকস্মিক চোট কোচের পরিকল্পনাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
গত সপ্তাহে নেইমারের জাতীয় দলে ফেরা ঘিরে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। কারণ, কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো এক বছর তাঁর কৌশলে ছিলেন না ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল) এই ফরোয়ার্ড।
গত কয়েক বছর ধরেই চোটের সাথে লড়াই করছেন নেইমার। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরার পরও প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি তিনি। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে কোচ আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, নেইমারকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না এবং ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দলে জায়গা হবে। ফলে আপাতত নেইমারকে ছাড়াই বিশ্বকাপের বিকল্প ছক সাজাতে হচ্ছে সেলেসাওদের।