
অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের ‘চাচা ক্রিকেট’
প্রায় ছয় দশক ধরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সঙ্গে এক দেশ থেকে আরেক দেশে, এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে ঘুরে বেড়ানো কিংবদন্তি সমর্থক আবদুল জলিল আর গ্যালারিতে বসে দলকে উৎসাহ দেবেন না। বিশ্ব ক্রিকেটে সবার পরিচিত ‘চাচা ক্রিকেট’ এবার তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেট-সমর্থনের অধ্যায় থেকে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সী এই নিবেদিতপ্রাণ ভক্তকে আর মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক সিরিজে গ্যালারিতে দেখা যাবে, যার পরেই শেষ হবে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর এই অবিস্মরণীয় ভালোবাসার গল্প।
চাচা ক্রিকেট প্রথমবার পাকিস্তানের খেলা মাঠে বসে দেখেছিলেন ১৯৬৮-৬৯ সালে, লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই যে শুরু, এরপর থেকে ধীরে ধীরে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নিয়মিত সফরসঙ্গী হয়ে ওঠেন এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের মানচিত্রে সবখানেই পাকিস্তানকে অনন্যভাবে রিপ্রেজেন্ট করেছেন।
শনিবার (৩০ মে) রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হওয়া পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটিই হতে যাচ্ছে দেশের মাটিতে তাঁর শেষ উপস্থিতি। এরপর বছরের শেষ দিকে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজে শেষবারের মতো গ্যালারিতে বসে দলকে উল্লাস শোনাবেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা ক্রিকেট স্মারক নিয়ে একটি নিজস্ব জাদুঘর গড়ে তোলার অনন্য পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান সমর্থক। ক্রিকেটভিত্তিক বিখ্যাত গণমাধ্যম ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে মাঠ থেকে সংগ্রহ করা তাঁর মহামূল্যবান স্মারকগুলো তিনি সেই জাদুঘরে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে চান। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ৫০০টি ম্যাচে সশরীরে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে নিজের মনের গভীর সন্তুষ্টির কথাও প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ এক জীবনে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সঙ্গী হয়ে মাঠের পর মাঠ চষে বেড়ানোর পেছনে কী অনুপ্রেরণা কাজ করেছে—জানতে চাইলে আবদুল জলিল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তিনি জীবনের সবকিছুই করেছেন শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলা এবং নিজের প্রিয় দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে। মাঠে তাঁর মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের একজন ভালো দূত হিসেবে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে সম্মানজনকভাবে তুলে ধরা এবং দুই দলের সমর্থকদের সমানভাবে আনন্দ দেওয়া। খেলা থেকে অবসরের পর জীবনের বাকি সময়টুকু কিছু সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাটাতে চান বলে জানান তিনি।
পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রসঙ্গ আসলে অবধারিতভাবেই ভারতের সঙ্গে তাদের চিরবৈরী ও ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা সামনে চলে আসে। টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সেরা স্মৃতিগুলোর একটি হলো চেতন শর্মাকে মারা জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই বিখ্যাত ছক্কা, যা জলিল নিজেই মাঠে বসে উপভোগ করেছিলেন। সেই সোনালী দিনের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে শারজাহতে মিয়াঁদাদ যখন চেতন শর্মাকে শেষ বলে ঐতিহাসিক সেই ছক্কাটি মেরেছিলেন, তিনি তখন গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এখনো তিনি চোখ বন্ধ করলে স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন, মিয়াঁদাদ কীভাবে নিখুঁত টাইমিংয়ে বলটি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে সীমানা পার করে পুরো স্টেডিয়ামে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন।