
ছবি: সংগৃহীত
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) সামাল দেওয়ার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি নিজের এমপিদের সামাল দিতে না পারেন, তবে ভবিষ্যতে তিনি নিজেই বড় বিপদে পড়বেন।
‘পাবলিক ইনভেস্টিগেশন’ নামক একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। দেশের সংসদীয় ব্যবস্থার সংকট তুলে ধরে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ মনে করিয়ে দেন যে, এমপিদের মূল কাজ হচ্ছে সংসদে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এমপিদের প্রভাবে ডিসি ও এসপিদের তাঁদের সাথে থাকতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, রাজনৈতিক কোনো মিটিংয়ে প্রশাসনকে রাখা একেবারেই ঠিক না এবং দেশের মানুষকে ন্যায়বিচার দিতে হলে প্রশাসনকে সব সময় এমপিদের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বশিক্ষিত লোকেরা কী ধরনের অত্যাচার ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রধানমন্ত্রীরই প্রধান দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে তাঁরই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিক নিজস্ব গোয়েন্দা সোর্স বা উৎস আছে এবং সেই সোর্সগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত রিপোর্ট নেওয়া উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুশাসন নিশ্চিত করতে এ ধরনের ৫-১০ জন এমপিকে ধরে জেলে দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অতীতের কিছু অজানা ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অধ্যায়ও উন্মোচন করেন কর্নেল অলি আহমদ। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ১৪৩ জন এবং বিএনপির ৪০ জন সংসদ সদস্য মিলে মোট ১৮৩ জন একটি ‘সংসদীয় ক্যু’ বা অভ্যুত্থান করতে চেয়েছিল।
সেই সময় ওই এমপিরা সংসদে একটি বিশেষ বিল আনার মাধ্যমে মূলত এই ক্যু-এর পরিকল্পনা করেছিল। অলি আহমদ জানান, সেই অভ্যুত্থান প্রক্রিয়ায় তাঁরা তাঁকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম দুই দিন এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলাম, কিন্তু তৃতীয় দিনে এসে আমার বিবেক বাধা দেয় এবং আমি আর রাজি হইনি। সেই দিন আমি স্পষ্ট বলেছিলাম, এমন বেইমানি ও মুনাফেকি আমি কোনো অবস্থাতেই বেগম খালেদা জিয়ার সাথে করতে পারবো না।
ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ক্যারিয়ারে ৬ বার এমপি এবং ৩ বার মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া এই বর্ষীয়ান নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের একটি ঘটনাও শেয়ার করেন। এলডিপির চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসলে তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দলের অনেক মন্ত্রী জিয়ার কান ভারী করেছিলেন বলেই শেষ পর্যন্ত তাঁর আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া হয়নি।