
ফক্স নিউজে পুত্রবধূ লারাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অত্যন্ত চমৎকার চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন তাদের কাঙ্ক্ষিত শর্ত পূরণ করতে না পারলে ‘অন্য উপায়ে’ এই সংঘাতের ইতি টানা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার রাতে ফক্স নিউজে তাঁর পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি খুব ভালো চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে। ভালো চুক্তি করার জন্য তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবেই ওয়াশিংটন যা চাচ্ছে, তা-ই পাচ্ছে। তবে নিজেদের দাবি আদায় না হলে বিকল্প উপায়ে এর সমাপ্তি টানা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা যদি চুক্তিটি করতে পারি, তবে ভালো। অন্যথায় আমরা যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) মাধ্যমে আবার সবকিছু শুরু করব, আমরা যেভাবে এটিকে ডেকে থাকি।”
ইরানিদের ভালো আলোচক বা নেগোশিয়েটর হিসেবে আখ্যা দিলেও ট্রাম্পের দাবি, বর্তমানে আলোচনার সব সুবিধা বা ‘তাস’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। কারণ ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং মার্কিন হামলায় তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়নি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাদের কিছু নেতৃত্ব তুলনামূলক নরমপন্থী ছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের চরমপন্থী অংশ ও মূল নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে চুক্তির কঠোরতার কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানিরা আগে জানিয়েছিল তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। কিন্তু তারা যদি অন্য কোথাও থেকে পরমাণু অস্ত্র কিনে নেয়, সেই প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প চুক্তিতে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। এখনকার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান কোনো সামরিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা কোনোভাবেই তা অন্য কোথাও থেকে ক্রয় করতে পারবে না, যা একটি বড় পরিবর্তন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর দূতদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদের করা চুক্তিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর দাবি জানিয়েছেন। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তারা জানায়, ট্রাম্প দ্রুত এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে আগ্রহী হলেও বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক উপাদানের বিষয়টি আরও শক্তিশালী করতে চান। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যোষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে হাতে পাবে এবং এর সময়সীমা কেমন হবে, সে সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করার চেষ্টা চলছে।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার উন্মুক্ত করার বিষয়ের কিছু শব্দচয়নেও সংশোধন চেয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন অনুরোধের ফলে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও এক দফা আলোচনা ও মতবিনিময় শুরু হয়েছে যা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। এই সংশোধনীগুলোর বিষয়ে ইরানিদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া বা উত্তর পেতে প্রায় তিন দিন সময় লাগবে বলে ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর মন্ত্রিসভার শীর্ষ সহকর্মী ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুমে’ একটি বৈঠক করলেও ভবিষ্যতের পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেই বৈঠকটি শেষ হয়েছিল।