
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগে নিজেদের শক্তি ও রণকৌশল ঝালিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমে বড় জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হয়েছিল তারা। রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পানামাকে ৬-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সেলেসাওদের এমন দাপুটে ও বড় জয় দলের আত্মবিশ্বাস যেমন বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তেমনি প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্যও একপ্রকার বড় সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ঝড়ের বেগে আক্রমণে ওঠে স্বাগতিক ব্রাজিল। ম্যাচের ১ম মিনিটেই অধিনায়ক ক্যাসেমিরোর বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে চোখধাঁধানো এক গোল করে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে ম্যাচের ১৩ মিনিটে একটি দুর্ভাগ্যজনক গোল হজম করতে হয় সেলেসাওদের; পানামার মাইকেল মুরিলোর নেওয়া ফ্রি-কিক ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকলে তা ‘আত্মঘাতী’ গোল হিসেবে গণ্য হয় এবং ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরে।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া ব্রাজিল আবারও লিড নেয় প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে। এবার প্রথম গোলের নায়ক ভিনিসিউসের দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে দর্শনীয় হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক ক্যাসেমিরো নিজেই। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর মাঠে ফিরে ব্রাজিল যেন আরও বেশি ভয়ঙ্কর ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। রণকৌশলের অংশ হিসেবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি এ সময় মূল গোলরক্ষক অ্যালিসনকে তুলে নিয়ে এডারসনকে মাঠে নামান। বিরতির পর ম্যাচের বাকি সময়টা ছিল কেবলই ব্রাজিলের গোল উৎসবের গল্প, যেখানে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা।
ম্যাচের শেষ দিকে ৮৩ মিনিটে পানামার কার্লোস হার্ভে একটি সান্ত্বনার গোল করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে, ব্রাজিলের একক আধিপত্যে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। পানামার বিপক্ষে গোলবন্যা বইয়ে দেওয়ার পর আগামী ৭ জুন নিজেদের পরবর্তী প্রস্তুতি ম্যাচে মোহামেদ সালাহর মিসরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
এই ম্যাচের পরেই শুরু হবে সেলেসাওদের আসল বিশ্বকাপ মিশন। আগামী ১৪ জুন ‘সি’ গ্রুপে থাকা শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। এরপর ২০ জুন গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতি এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির দল।