
তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা মনোনয়নকে ঘিরে জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে আলোচনা করতে ডাকা তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিধায়ক দলীয় বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। কারণ, দলটির ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ১৯ জন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
রোববার কলকাতায় দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। দলীয় সূত্র জানায়, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা একটি চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ তদন্ত করছে সিআইডি। এ বিষয়ে আলোচনা করতেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।
দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, অধিকাংশ বিধায়ক বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি কারণ তারা দলীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন।
তবে বৈঠকে এত বিপুল সংখ্যক বিধায়কের অনুপস্থিতি দলীয় অন্দরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিআইডি দপ্তরে জাল স্বাক্ষর মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলেন, ‘মালদহ ও নদিয়ার দূরবর্তী এলাকা থেকে বিধায়করা বৈঠকে আসতে পারলেও কলকাতার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিধায়কের অনুপস্থিতি বিস্ময়কর।’
তিনি আরও জানান, বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নতুন বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়কের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে বিধানসভায় একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, চিঠিতে থাকা কিছু স্বাক্ষর বিধানসভার নথিভুক্ত স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলছে না। এরপর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা কয়েকজন বিধায়কের মধ্যে কেবল ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে তিনি ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ মে তৃণমূল কংগ্রেস ৮২ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়ন দেয়। পাশাপাশি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে দলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করা হয়।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল