
যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দেশে কেউ বেকার থাকবে না এবং বর্তমান সরকারই প্রথমবারের মতো হকারদের উচ্ছেদের বদলে পুনর্বাসনের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি কখনো দেশে বেকারত্ব সৃষ্টি করেনি, বরং সব সময় কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শুরু করে বিএনপির প্রতিটি সরকার দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন এবং এই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল সূচনা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে প্রণোদনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে অসংখ্য উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতে অর্ধেকের বেশি নারী কাজ করছেন, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অনন্য বড় উদাহরণ।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, “আপনাদেরকে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, কখনোই কোনোভাবেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে দেশ, এই দেশে কেউ বেকার থাকবে না। নানা উদ্যোগে, নানা সেক্টরে কর্মের প্রসার ঘটবে।”
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার হকারদের উচ্ছেদের পরিবর্তে পুনর্বাসনের কথা বলছে। কারণ একজন হকারের সঙ্গেও একটি পুরো পরিবারের জীবিকা জড়িত থাকে। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি এত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া অসহায়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। বিশেষ করে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে আরও ক্ষমতায়িত হতে পারেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতি চারণ করে রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১ হাজার ৬০০ মাইল দীর্ঘ খাল খননের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যাতে শুকনো মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়। এসব খালের মাধ্যমে শুধু কৃষি নয়, মাছ চাষের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছিল, যা মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিগত ১৬ বছরে দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। জনগণের টাকার বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে ১৬ বছরে শেখ হাসিনা, তার দোসররা, আত্মীয়স্বজনরা এবং তার দলের লোকরা প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।
অধ্যাপক আশফাকুল ইসলাম মনুর সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।