
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। সোমবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান সব ধরনের আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
ইরানের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। আলোচনা স্থগিতের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলারের বেশি হয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি একটি মৌলিক শর্ত। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, লেবাননে সংঘাত বন্ধ না হলে শান্তি প্রচেষ্টায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানায় তেহরান।
এদিকে ইরানের এমন অবস্থানের মধ্যেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে নতুন করে হামলার নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক অভিযান আরও জোরদারের ঘোষণা দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
সূত্র: এএফপি