
ফাইল ছবি
বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা করতে একাধিক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির হাইভোল্টেজ বোর্ড সভায় টেস্ট ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করতে এমসিসি প্রণীত নতুন ক্রিকেট আইনের অংশ হিসেবে মোট ৭৩টি নিয়ম পরিবর্তনের বড় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো সোমবার (১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসি জানিয়েছে, ক্রিকেটের আধুনিকায়নে অনুমোদিত এই ৭৩টি বড় পরিবর্তন আগামী ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুরোপুরি কার্যকর হবে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে মাল্টি-ডে বা বহুদিনের ম্যাচের শেষ ওভার সম্পন্ন করা এবং ব্যাটিং সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এবারের সভায় সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের পুরোনো সমস্যা তথা আলোকস্বল্পতার সমাধান। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের যেকোনো দিন আলো কমে গেলে এবং সংশ্লিষ্ট দুই দলের সম্মতি থাকলে মাঠের আম্পায়াররা লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহার করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন।
এর ফলে আলোকস্বল্পতার কারণে অহেতুক খেলা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা যেমন কমবে, তেমনি দর্শকরাও দীর্ঘ সময় ধরে টেস্টের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন। এই সভার আরেকটি বড় প্রযুক্তিগত সংযোজন হলো অবৈধ বোলিং অ্যাকশন শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া। এখন থেকে হক-আই প্রযুক্তির আধুনিক সহায়তায় মাঠের আম্পায়াররা সরাসরি বোলারদের বোলিং অ্যাকশন নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, যার ফলে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ধরা পড়বে এবং মাঠের অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে।
অন্যদিকে, আধুনিক ক্রিকেটের গতি আরও বাড়াতে ছোট সংস্করণের খেলা টি-টোয়েন্টিতেও আনা হয়েছে লক্ষণীয় পরিবর্তন। নতুন নিয়মে দুই ইনিংসের মাঝখানের বিরতির সময় ২০ মিনিট থেকে কমিয়ে ১৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচের নির্ধারিত পানির বিরতির (ড্রিংকস ব্রেক) সময় দলগুলোর প্রধান কোচদের মাঠে প্রবেশ করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কৌশলগত আলোচনা বা পরামর্শ করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পুরুষ ক্রিকেটের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটের কাঠামোগত উন্নয়নেও এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আইসিসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পূর্বনির্ধারিত জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে এগিয়ে এনে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে প্রথমবারের মতো ১০টি দল নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে ‘উইমেনস ইমার্জিং নেশনস ট্রফি’।
এদিকে ২০২৮ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে রাজনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক বাস্তবতা বিবেচনা করে ভারতের ম্যাচগুলো পাকিস্তানের মাটিতে না রেখে একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করার বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।