
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিতর্কিত ১৮০ কোটি ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এ বিষয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে বিষয়টির সঙ্গে জড়িত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
খবর সিএনএন
তবে পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে নাকি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।
সূত্রগুলোর একজন জানান, প্রশাসন আপাতত তহবিল বাস্তবায়নের উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসছে। তবে আরেকটি সূত্রের দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল নয়, বরং আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সোমবার বিভাগটি জানিয়েছে, তারা ফেডারেল আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবে। আদালত অন্তত ১২ জুন পর্যন্ত তহবিল কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প নিজেও এখনো প্রকাশ্যে তহবিলটি বাতিলের ঘোষণা দেননি। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প এখনো এই তহবিলের ধারণাকে সমর্থন করেন।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অধীন।”
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে পরিস্থিতি এমনই। যদি আদালত অনুমতি না দেয় এবং এখন আদালত এটি আটকে রেখেছে, তাহলে আর কী করা যায়?”
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে ট্রাম্প এ তহবিলের বিষয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকের পরই প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের অনেকেই এখনো আশ্বস্ত নন। তাদের মতে, প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তহবিলটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে কি না।
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি বলেন, “যদি প্রশাসন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে, তাহলে তা স্পষ্ট ও চূড়ান্তভাবে জানানো উচিত। শুধু আদালতের আদেশ মেনে চলার কথা বললে কিছুই বোঝা যায় না।”
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট সাংবাদিকদের বলেন, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন যে তহবিলটি ‘বাতিল করা হচ্ছে’। তবে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী নাকি সাময়িক, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
বিতর্কিত এ তহবিলের কারণে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরেই ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত অর্থায়নসংক্রান্ত রিপাবলিকানদের বৃহত্তর আইন প্রণয়ন কর্মসূচিতেও।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও সোমবার প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন নিজেরাই এই তহবিল পরিকল্পনা বন্ধ করে দেয়।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের কর-সংক্রান্ত তথ্য অবৈধভাবে প্রকাশের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কর বিভাগ (আইআরএস)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে ঘোষণার পর থেকেই সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, এটি মূলত ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
এদিকে ভার্জিনিয়ার এক ফেডারেল বিচারক ১২ জুন এ বিষয়ে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওই শুনানি পর্যন্ত বিচার বিভাগকে তহবিল গঠন, আবেদন বিবেচনা বা অর্থ বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ফ্লোরিডার আরেক বিচারক ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন যে, আইআরএসের বিরুদ্ধে মামলার নিষ্পত্তিতে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে কি না। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাম্প ও আইআরএসের পক্ষে থাকা বিচার বিভাগের আইনজীবীরা আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছাতে যোগসাজশ করেছেন।
ফলে বিতর্কিত এ তহবিলের ভবিষ্যৎ এখন আদালতের সিদ্ধান্ত এবং রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।