
মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ডনিপ্রো শহরে ৯ জন এবং রাজধানী কিয়েভে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার অন্যতম বড় আকারের হামলা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।
রাতভর চলা এই হামলায় বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই হামলা ছিল ইউক্রেনের আগের আক্রমণের জবাব। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
গত সপ্তাহে মস্কো অভিযোগ করেছিল, পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় ছাত্রাবাসে ইউক্রেনের হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে। এরপরই রাশিয়া ‘ধারাবাহিক হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। যদিও কিয়েভ বলেছে, ছাত্রাবাস নয় তারা একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
সোমবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, বড় ধরনের হামলা হতে পারে। তিনি দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার সকালে জেলেনস্কি জানান, রাতভর হামলায় রাশিয়া ৬৫৬টি আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং ৭৩টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়া রাতভর ৬৫০টির বেশি ড্রোন ও ৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে ৬৪২টি ভূপাতিত করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
মে মাসে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে রাশিয়া কিয়েভে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন।
কয়েক দিন পর পাল্টা জবাবে ইউক্রেন মস্কো অঞ্চলে হামলা চালায়। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় তিনজন নিহত হন। তবে জেলেনস্কি এটিকে ‘সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।