
নিহতদের মধ্যে দুইজন অ্যাম্বুলেন্সকর্মীও রয়েছেন
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন অ্যাম্বুলেন্সকর্মীও রয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের চেহুর এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে ইসরায়েলি হামলায় দুইজন প্যারামেডিক নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া উপকূলীয় শহর টাইরের দক্ষিণে আল-হাউশ এলাকায় পৃথক এক হামলায় চারজন সিরীয় ও দুইজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণে খালদেহ এলাকায় একটি গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এতে দুইজন আহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। সোমবার ঘোষিত আংশিক যুদ্ধবিরতির পর রাজধানী বৈরুতের সবচেয়ে কাছাকাছি এ হামলার ঘটনা ঘটে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, চিকিৎসাকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করছে। তাদের দাবি, গত তিন মাসে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২৮ জন চিকিৎসাকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ ও কাফর তেবনিতের মধ্যবর্তী সড়কে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তাদের এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। পৃথক আরেক হামলায় আরও দুই সেনা আহত হন। সেনাবাহিনী এসব হামলাকে তাদের সদস্য ও স্থাপনার ওপর ‘ইচ্ছাকৃত আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে আসা একটি ড্রোন এবং দুটি রকেট প্রতিহত করেছে। পরে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে দাবি করে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তারা উত্তর ইসরায়েলে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে সংগঠনটি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর নতুন হামলা না চালালে ইসরায়েলও বৈরুতের ওপর বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা সেই সমঝোতার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইসরায়েলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির আশা করা হচ্ছে, যা লেবাননের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং হিজবুল্লাহর প্রভাবের বাইরে থাকবে।
বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত গত ২ মার্চ। ওই দিন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে, যার জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে এবং পরে দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান চালায়। এরপর থেকে সংঘর্ষ ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে অন্তত ৩,৫১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘের তথ্যমতে, ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, সংঘাতে তাদের ২৬ সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি লেবাননে পড়ছে। ফলে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা না গেলে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।