
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মিরপুরে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন তার ছোট ছেলে, বুয়েটের অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, মাকে অবহেলা করা হয়নি; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিবারকে নিয়ে অনেক ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
আশিকুর রহমান জানান, ঈদের দিন বিকেলে তিনি পরিবার নিয়ে মায়ের কাছে গিয়েছিলেন এবং সময় বুঝতে সুবিধার জন্য একটি দেয়ালঘড়িও উপহার দেন। তিনি বলেন, মায়ের সময়জ্ঞান দুর্বল ছিল এবং মোবাইল ফোনে সময় দেখতে পারতেন না। মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, এর মধ্যে নানা গুজব তাদের আরও কষ্ট দিচ্ছে।
গত ৩১ মে মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি তার মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় সরকারের এক যুগ্ম সচিব ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময় তিনি মাকে নিজের কাছে রেখেছেন এবং চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় দেখভাল করেছেন। তার দাবি, মা ও বোন—দুজনেরই মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু সমস্যা ছিল, যার কারণে তারা বাইরের লোকজন বা গৃহকর্মীকে সহজে গ্রহণ করতেন না। ফলে বাসার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় বাসাটি অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় ছিল এবং মরদেহে পোকা ধরার আলামত পাওয়া যায়। তবে আশিকুর রহমান এ বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, মায়ের মৃত্যু ও বাসার পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা তথ্য ছড়ানো উচিত নয়।
পল্লবী থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে মৃত্যুর দুই-এক দিন আগেই নূর জাহান বেগম মারা গিয়েছিলেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।