
ছবি: সংগৃহীত
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার রাগদি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের অমলেন্দু হাওলাদারের ছেলে অমিতাভ হাওলাদার (৪২) এবং শেরপুর জেলার আব্দুস সামাদের ছেলে কালাম (৩০)।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস প্রথমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের রাগদি ব্রিজে ধাক্কা দেয়। ঠিক ওই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা হিমেল সীমান্ত পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাস বিআরটিসি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসেরই অন্তত ২৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্থানীয় জনতা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তারা মারা যান।
এ ছাড়া চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে আরও একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৩ ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে; পরে পুলিশ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই সোহেল খান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার কাজ চালানো হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।