
সংগৃহীত ছবি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে নদী থেকে তোলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সকালে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিলেন না। ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে ঘাটে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরিতে প্রবেশের সময় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি র্যাম্পে ধাক্কা দেয়। এতে র্যাম্পের একটি অংশ ভেঙে গেলে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় চালক ও তার সহকারী বাসের ভেতরে ছিলেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, র্যাব, বিআইডব্লিউটিএ এবং ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় চালক ও সহকারীকে দ্রুত নদী থেকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার পর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো যাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও আসেনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আরেকটি বাস নদীতে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই একই এলাকায় নতুন করে বাস দুর্ঘটনার ঘটনায় ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।