
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান
বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছে দুই দেশ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমান ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি তুর্কি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। তুরস্কের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে যৌথ কাজের সম্ভাবনা আলোচনা করা হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর নির্ভরশীল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বন্ধু ও অংশীদার চায়, কোনো প্রভু নয়।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে উচ্চশিক্ষার বৃত্তি বাড়ানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী।
এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করলে তুরস্ক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে এবং সংকট সমাধানে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়। শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।