
নিহত আল আমিন মিয়া
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আল আমিন মিয়া (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুয়ালালামপুর শহরের একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করার সময় হঠাৎ তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে কারখানার সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আল আমিন মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের নিমুক পুরুড়া গ্রামের মৃত শামসু মিয়ার ছেলে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে স্তব্ধতা নেমে আসে। চার সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে আল আমিনের এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া পড়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৮ বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ও সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন আল আমিন। প্রবাসী এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছুটি পেলে নিয়মিত দেশের মাটিতে স্বজনদের কাছে আসতেন। তার উপার্জনেই পুরো পরিবারের ভরণপোষণ ও সংসার চলত।
আল আমিনের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ চারজন ছোট সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মেয়ের বয়স মাত্র তিন মাস। বাবার আদরের এই অবুঝ সন্তানরা এখনো ঠিকমতো বুঝতেও শেখেনি যে তাদের মাথার ওপর থেকে ছায়া চিরতরে সরে গেছে।
স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী আয়েশা আক্তার এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, স্বামীকে হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ছোট ছোট সন্তানদের লেখাপড়া ও ভরণপোষণ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে তিনি ভীষণ দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ অবস্থায় প্রিয়জনের মরদেহটি শেষবারের মতো দেখার জন্য এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে শোকার্ত পরিবার ও স্থানীয় স্বজনরা সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।