
লম্বা ট্যুর নয়, ম্যাজিক দেখাবে দুই মাসের শর্ট ব্রেক!
সারা বছর গাধার খাটুনি খেটে অনেকেই ভাবেন, “বছরের শেষে একটা লম্বা ট্যুর দেব, সব ক্লান্তি একবারে উড়ে যাবে!” কিন্তু বাস্তবতার কঠিন সত্যি হলো, ১০-১৫ দিনের সেই রাজকীয় ছুটি কাটিয়ে অফিসে ফেরার প্রথম সপ্তাহেই মনে হয়—ক্লান্তি তো দূর হয়ইনি, উল্টো যেন দ্বিগুণ হয়ে চেপে বসেছে। তাহলে উপায়? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বছরের শেষে একবারে সব ছুটি খরচ না করে প্রতি দুই মাস পরপর ছোট ছোট ‘শর্ট ব্রেক’ নেওয়াই হলো আসল বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ বার্ষিক ছুটি সাময়িকভাবে আনন্দ দিলেও এর ইতিবাচক প্রভাব খুব বেশি দিন টেকে না। কাজে ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ছুটির আমেজ উবে যায় এবং কর্মক্ষেত্রের চেনা মানসিক চাপ আবার জেঁকে ধরে।
সহজ একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। আপনি যদি আপনার স্মার্টফোনটি সারা দিনে একবারও চার্জ না দিয়ে একদম শূন্য পারসেন্টেজ-এ নামিয়ে আনেন এবং তারপর একবারে ফুল চার্জ দেন, তবে ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমতে থাকে। কিন্তু যদি ব্যাটারি কিছুটা কমলেই একটু একটু করে চার্জ দেন, তবে ফোনটি দীর্ঘদিন সচল ও ফাস্ট থাকে। আমাদের মস্তিষ্কটাও ঠিক এই ফোনের ব্যাটারির মতোই। একে একবারে ড্রেন-আউট বা নিস্তেজ না করে প্রতি দুই মাস পরপর ছোট ছোট বিরতি দিয়ে ‘রিচার্জ’ করা উচিত।
দুই মাস অন্তর মাত্র কয়েক দিনের জন্য কর্মব্যস্ততা থেকে দূরে থাকাটা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি দুই মাস অন্তর মাত্র কয়েক দিনের জন্য কর্মব্যস্ততা থেকে দূরে থাকাটা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে। যারা এই নিয়ম মেনে চলেন, তাদের মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর হয় দ্রুত এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি পান। ফলে অফিসে তাদের কাজের মান ও পারফরম্যান্স অন্যদের চেয়ে অনেক গুণ ভালো হয়।
তাই ছুটির ক্যালেন্ডারটি এমনভাবে সাজান যেন প্রতি দুই মাস পর পরই ছোট একটা রিফ্রেশমেন্টের সুযোগ থাকে। মনে রাখবেন, একটানা ইঞ্জিন চালালে তা যেমন একসময় বিকল হয়ে যায়, তেমনি বিরতিহীন মস্তিষ্কও সেরা আউটপুট দিতে পারে না। দিনশেষে একটি সতেজ মনই পারে কর্মক্ষেত্রে আপনার শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে।
ভিজুয়াল স্টোরি