
সংগৃহীত ছবি
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মেহেরপুর, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিলেটসহ একাধিক সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে শনিবার ভোরে ভারত থেকে ৬ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে জানা যায়, ওই ৬ জন—যাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১ শিশু রয়েছে—বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় কাঁটাতারের পাশে অবস্থান করছে। তাদের বিষয়ে সমাধানের জন্য পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দিয়েছে বিজিবি।
এ ঘটনায় ভোর থেকেই তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিজিবির সঙ্গে অবস্থান নেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের পিলার ১০৪-এর সাব-পিলার ৫ এলাকার কাছ দিয়ে ওই ব্যক্তিদের প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়। তবে প্রতিরোধের মুখে তারা ভারতের দিকেই ফিরে যায় এবং পরে কাঁটাতারের পাশে অবস্থান নেয়।
একই ধরনের ঘটনা লালমনিরহাট সীমান্তেও ঘটেছে। বিজিবি জানিয়েছে, জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মোট ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও বিজিবির অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি এবং পরে তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
বিজিবি সূত্র অনুযায়ী, বড়খাতা, পঁয়ষট্টিবাড়ী এবং দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এসব ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। পরে বিভিন্ন সময়ের মধ্যে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দেয়। সেখানে দুই দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ২৮ জনকে পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজেদের এলাকায় ফিরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এছাড়া সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন ঠেকাতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করেছে বিজিবি। স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়।