
‘এমা অ্যাওয়ার্ড’ জয়ী চলচ্চিত্র ‘নিশি’
বাংলাদেশের সিনেমা ইতিহাসে একমাত্র ‘এমা অ্যাওয়ার্ড’ জয়ী চলচ্চিত্র ‘নিশি’ এবার ইউরোপের বুকে আরও একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের নান্দনিক দেশ মন্টেনিগ্রোর ‘গ্রিন মন্টেনিগ্রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর ১২তম আসরে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে এই সিনেমাটি।
বিশ্বের শীর্ষ ৩১টি পরিবেশ বিষয়ক চলচ্চিত্র উৎসবের তালিকায় এই উৎসবটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত। শুধু তাই নয়, এটি মন্টেনিগ্রোর একমাত্র পরিবেশবাদী চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ১ থেকে ৩ আগস্ট মন্টেনিগ্রোর জাবলজাক পৌরসভায় অবস্থিত ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ‘দুরমিতর ন্যাশনাল পার্কের ব্ল্যাক লেক’-এর চোখ জুড়ানো প্রকৃতির মাঝে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব।
সিলেটের চা-বাগান ও এর আশেপাশের মনোরম এবং বাস্তব পরিবেশে চিত্রায়িত হয়েছে ‘নিশি’। সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। আর এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন গোলাম রাব্বানী ও জহিরুল ইসলাম।
মন্টেনিগ্রো উৎসবে সিনেমাটি নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে নির্মাতা গোলাম রাব্বানী নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “নিশির এই আন্তর্জাতিক জার্নি সত্যিই দারুণ। সিনেমার মাধ্যমে আমরা আমাদের গল্প বিশ্ববাসীকে দেখাতে পারছি, আবার তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখতে পারছি—যা আমাদের সিনেমা জার্নিকে সমৃদ্ধ করছে। ধন্যবাদ আমার ফিল্ম স্কুল আইএএফএম-এর প্রতি, আমার উপর বিশ্বাস রাখার জন্য।”

ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার (আইএএফএম) প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাটির পেছনে বড় আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স এবং ইউনেসকো ঢাকার। ছবিটির চূড়ান্ত সম্পাদনা, কালার ও সাউন্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে পোল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত ‘লজ ফিল্ম স্কুল’-এ। আর এর চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাতালিয়া পুসনিক।
সিনেমাটির মূল উপজীব্য গড়ে উঠেছে এক জলবায়ু ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে। পানির তীব্র সংকটের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এক দরিদ্র চা-শ্রমিকের কন্যাসন্তানের। সেই সুযোগে বাড়িতে একটি টিউবওয়েল বসিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নাবালিকা মেয়েটিকে বিয়ে করতে চায় লালচাঁন নামের এক ধূর্ত কাঠ ব্যবসায়ী। এভাবেই এক নির্মম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমার কাহিনী।
সিনেমার আরেকটি দারুণ বৈশিষ্ট্য হলো, এর প্রধান চরিত্রগুলোতে কোনো পেশাদার তারকা অভিনয় করেননি। এতে অভিনয় করেছেন খোদ চা-বাগানের শ্রমিকের মেয়ে নিশি এবং স্থানীয় চা-শ্রমিক বিশ্বজিৎ, গণেশ ও ভারতী। তাদের বাস্তব জীবনের সহজ-সরল অভিনয়ই সিনেমাটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এতটা গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।