
ফাইল ছবি
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র প্রভাবে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই হু হু করে বাড়ছে পণ্যের দাম। এর ফলে বিদায়ী মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আজ রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ঠিক আগের মাস এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।
বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্য দিয়ে দেশে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকল। মূলত এক মাসের ব্যবধানে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই দাম বাড়ার কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে এর চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, যখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপর থেকে মূল্যস্ফীতি কিছুটা ওঠানামার মধ্যে থাকলেও মে মাসে এসে তা আবার লাগামহীন হয়ে পড়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে টানা কয়েক মাস বৃদ্ধির পর গত ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছালেও মার্চে তা আবার ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছিল। তবে এপ্রিল ও মে মাসে টানা দুই মাস তা পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী থাকার তথ্য দিল সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগ।
মূল্যস্ফীতির খাতভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মে মাসে খাদ্যপণ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই বড় ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সার্বিক সূচকে। মে মাসে কেবল খাদ্যপণ্যেই মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যপণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়েছে।
অন্যদিকে, পোশাক, যাতায়াত, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো খাদ্য-বহির্ভূত খাতের ব্যয়ও মে মাসে আরও লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এপ্রিলে খাদ্য-বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি যেখানে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মে মাসে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ এক লাফে অনেক বেড়ে যাওয়ায় পুরো বাজার ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক চেইন-ইফেক্ট পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও কঠিন করে তুলেছে।