
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে (টিএমসি) ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই দলের ১৩ জন সাংসদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার এক বিজেপি মন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন টিএমসির রাজ্যসভার সদ্য পদত্যাগ করা সদস্য সুখেন্দু শেখর রায় এবং লোকসভার সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চিঠিতে তারা সংসদে আলাদা অংশ হিসেবে আসন বরাদ্দের দাবি জানাবেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংসদদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, পার্থ ভৌমিক, জগদীশ বসুনিয়া, মিতালি বাগ, চিত্রনায়ক দেব, শতাব্দী রায়, রচনা ব্যানার্জি, শর্মিলা সরকার, কালিপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, অসিত মাল, শত্রুঘ্ন সিনহা, প্রসূন ব্যানার্জি, প্রতিমা মণ্ডল এবং বাপি হালদারের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে সুখেন্দু শেখর রায় ছাড়া বাকিরা সবাই লোকসভার সদস্য।
ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় শাস্তি এড়াতে বিদ্রোহী সাংসদদের লোকসভায় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। টিএমসির ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা ১৯ জন।
এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক বক্তব্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, তারসহ প্রায় ২০ জন টিএমসি সাংসদ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে সোমবারই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায় এবং টিএমসি ছাড়ার ঘোষণা দেন। দল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের দাবি তোলার পর থেকেই তিনি দলে ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়েন।
এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে টিএমসির অভ্যন্তরীণ সংকট এবং সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ পর্যবেক্ষণ