
টিকাটুলির ‘ফিফা গলি’
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী টিকাটুলির কে.এম. দাস লেনে অবস্থিত ‘ফিফা গলি’ এখন ফুটবলপ্রেমীদের এক টুকরো স্বর্গ। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মিতালী স্কুলের পাশের এই সাধারণ গলিটিকে রঙ-তুলির আঁচড়ে এক অনন্য উৎসবের ক্যানভাস বানিয়ে তুলেছে স্থানীয় কিশোর ও তরুণরা। দেয়াল জুড়ে ম্যারাডোনা, পেলে, মেসি, রোনালদো কিংবা এমি মার্তিনেসদের মতো কিংবদন্তিদের প্রতিচ্ছবি আর ফুটবল পায়ে ছোট ছোট শিশুদের এই উচ্ছ্বাস নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ ফটো স্টোরি;

স্বপ্নের উড্ডয়ন
দেয়ালে আঁকা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙের ডানার মাঝে ফুটবল, আর তার সামনে দাঁড়িয়ে দুই খুদে ফুটবল ভক্ত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের এই মেলবন্ধন যেন জানান দিচ্ছে, ফুটবল আসলে বিভেদ নয়, সবাইকে এক সুতোয় বাঁধার উৎসব।

সিআরসেভেনের গর্জন
পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেই চেনা গর্জনের দেয়ালচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দিচ্ছে দুই বন্ধু। একজনের গায়ে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি, অন্যজনের গায়ে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা—শত্রুতা কেবল মাঠেই, মাঠের বাইরে শুধুই বন্ধুত্ব।

কিংবদন্তিদের ছায়ায় আগামীর ফুটবল
ম্যারাডোনা ও পেলের মতো ফুটবল ঈশ্বরের ছবির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে গলির কিশোররা। মাথার ওপর উড়ছে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পতাকা, যা পুরো গলিতে এনে দিয়েছে এক আন্তর্জাতিক আমেজ।

স্বপ্নের সোনালী ট্রফি
তুলির নিখুঁত টানে সাদা দেয়ালে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল লোগো আর সোনালী ট্রফি ফুটিয়ে তুলছে এক তরুণ। এই একটি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়েই তো আগামী কয়েকদিন মেতে থাকবে পুরো বিশ্ব।

ফিফা গলির সেলফি ফ্রেম
গলির দেয়ালে আঁকা ফুটবল তারকাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে পরিবারের সাথে সেলফি তোলার এই আনন্দ এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন পুরান ঢাকার এই রঙিন গলির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দী করতে।

মার্তিনেসের সেই ঐতিহাসিক সেভ!
আর্জেন্টাইন বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্তিনেসের গোল বাঁচানোর সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্তটি জীবন্ত হয়ে উঠেছে দেয়ালে। আর তার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে এক খুদে মায়াবী চোখ নিয়ে তাকিয়ে দেখছে তার প্রিয় নায়কের বীরত্ব।

ড্রিবলিং ম্যাজিক
ফুটবল সম্রাট পেলের চিরসবুজ হাসির দেয়ালচিত্রকে সাক্ষী রেখে খালি পায়ে ফুটবল কসরত দেখাচ্ছে এক কিশোর। ব্রাজিলের হলুদ জার্সি আর ফুটবলের এই নান্দনিকতা যেন লাতিন ফুটবলের সাম্বা ছন্দকেই মনে করিয়ে দেয়।

কিংবদন্তিদের আবহে শৈশবের ফুটবল
ম্যারাডোনা আর রোনালদোর ছবির মাঝখানের শূন্য রাস্তায় খালি পায়ে ফুটবল নিয়ে মেতে আছে এক চঞ্চল কিশোর। গলিটাই যাদের ফুটবল মাঠ, তাদের কাছে এই দেয়ালচিত্রগুলো যেন প্রতিদিন মাঠে নামার এক নতুন অনুপ্রেরণা।

এক জাদুকরের গল্প
লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু খাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এখন টিকাটুলির দেয়ালে। সেই ছবির পাশেই ফুটবলকে আঙুলের ডগায় ঘুরিয়ে যেন নিজেদের ভেতরের জাদুকরকে চেনাচ্ছে আরেক খুদে ফুটবলার।

ফন পার্সির ওড়ার গল্প
২০১৪ বিশ্বকাপে ডাচ তারকা রবিন ফন পার্সির সেই বিখ্যাত ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ ডাইভিং হেডের ম্যুরালচিত্রের সামনে মেতে উঠেছে দুই কিশোর। দেয়ালের সেই অতিমানবীয় গোলের সাথে তাল মিলিয়েই যেন এক খুদে ফুটবলার শূন্যে লাফিয়ে উঠে হেড করার জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করেছে।
ভিজুয়াল স্টোরি