
‘প্রিয় বন্ধু দিবস’
হাসি-কান্না, রাগ-অভিমান আর একরাশ পাগলামির অপর নাম বন্ধুত্ব। জীবনের প্রতিটি মোড়ে, সুখ কিংবা চরম হতাশার দিনে যে মানুষটি ছায়ার মতো পাশে থাকে, সে-ই হলো প্রিয় বন্ধু বা ‘বেস্টি’। সেই প্রাণপ্রিয় বন্ধুদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর জন্য আজ সোমবার, ৮ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বেস্ট ফ্রেন্ডস ডে’ বা প্রিয় বন্ধু দিবস।
এই বিশেষ দিনটির আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় নয় দশক আগে। ১৯৩৫ সালের কথা; আমেরিকার কনগ্রেস প্রতি বছর ৮ জুন তারিখটিকে বন্ধুদের জন্য উৎসর্গ করে একটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
বন্ধুদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তী সময়ে দিনটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে পালিত হয় বেস্ট ফ্রেন্ড ডে।
দিনটির মূল লক্ষ্য হলো প্রিয় বন্ধুর অবদান স্মরণ করা এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। অনেকেই এদিন বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করেন কিংবা শুভেচ্ছা বার্তা ও ছোট উপহারের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করেন এবং মানুষের জীবনের এই অন্যতম সেরা সম্পর্কটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতেই মার্কিন কনগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সেই থেকে শুরু। পরবর্তীতে দিনটির আবেদন সাধারণ মানুষের মনে এতটাই দাগ কাটে যে, এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি উৎসবে রূপ নেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আজকের দিনটি প্রিয় বন্ধুকে ‘ধন্যবাদ’ জানানোর এক দারুণ উছিলা।
গল্পের মতো করে বললে, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে একজন প্রিয় বন্ধুর ভূমিকা রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানসিক অবসাদ কিংবা একাকীত্ব দূর করতে একজন ভালো বন্ধুর চেয়ে বড় কোনো ওষুধ নেই। বিপদে নিঃসংকোচে কথা বলা, মন খারাপের দিনে কোনো কারণ ছাড়াই হাসিয়ে দেওয়া কিংবা নীরব থেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জাদুকরী ক্ষমতা কেবল একজন প্রিয় বন্ধেরই থাকে। আর যাদের প্রিয় বন্ধু আজ আর এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই, তাদের জন্য দিনটি পুরোনো সোনালী স্মৃতি রোমন্থন করে কাটানোর এক আবেগঘন মুহূর্ত।
আজকের দিনটি উদযাপনের জন্য খুব বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। দূরে থাকা বন্ধুকে হুট করে একটা ফোন দিয়ে জানিয়ে দিতে পারেন আপনার জীবনে তার গুরুত্ব কতখানি। আর কাছাকাছি থাকলে আজই বসে যেতে পারেন কফির কাপে জমজমাট আড্ডায়, দেওয়া যেতে পারে ছোট কোনো সারপ্রাইজ। কারণ, ক্যালেন্ডারের পাতা ধরে এই দিবসটি বছরে একবারই আসে—প্রিয় মানুষটিকে মনে করিয়ে দিতে যে, সে কতটা স্পেশাল।