
ফাইল ছবি
মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য অতিদ্রুত উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই ইতিবাচক তথ্য জানান। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। অধিবেশনে আশা প্রকাশ করা হয় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে খুব দ্রুতই দেশটিতে বাংলাদেশী কর্মী প্রেরণের পথ সুগম হবে।
অধিবেশনে জানানো হয়, বর্তমান অর্থবছরের ১১ মাসে (১ জুলাই, ২০২৫ হতে ৩১ মে, ২০২৬ পর্যন্ত) ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন কর্মীর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজারগুলোতে পুনরায় পুরোদমে কর্মী পাঠানোর জন্য দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে বিদেশে ভুয়া চাহিদাপত্রের (ডিমান্ড লেটার) মাধ্যমে কর্মী নিয়ে প্রতারণার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর স্বীকার করেন যে, বিদেশে নামমাত্র কোম্পানি খুলে কর্মী নিয়ে মানবেতর অবস্থায় ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। এই প্রতারণা ঠেকাতে এবং ডিমান্ড লেটার যাচাইয়ে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৩০টি শ্রমকল্যাণ উইং ও দূতাবাসগুলোর কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
একই সাথে অধিবেশনে রাশিয়ায় কাজের কথা বলে কর্মী পাঠিয়ে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এমন ৩০ জন কর্মীকে রাশিয়ায় কাজের কথা বলে যুদ্ধে জড়ানোর তথ্য তাদের পরিবার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। এই অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে ৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এছাড়াও সংসদে প্রবাসীদের কল্যাণে ঋণ সুবিধা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার চিন্তাভাবনার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে মধ্যপ্রাচ্যে সংহতি প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে, নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইএলও মানদণ্ড নিশ্চিত করার পর প্রবাসে পাঠানো এবং তাদের সুরক্ষায় সেফ হোম ও ১৬১৩৫ নম্বরের টোল-ফ্রি হটলাইন সেবা আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও সংসদে জানানো হয়।