
কুয়ালালামপুরে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক বিদেশি নাগরিকদের কয়েকজন/ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিদেশিদের পরিচালিত সন্দেহভাজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একটি বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। রোববার (৭ জুন) পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের মোট ৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
‘অপস বেলাঞ্জা’ ও ‘অপস সেলেরা’ নামের এই যৌথ অভিযানে দেশটির অভিবাসন বিভাগের সাথে কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল), কোম্পানি কমিশন মালয়েশিয়া (এসএসএম) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন) অংশ নেয়।
অভিযান চলাকালীন কুয়ালালামপুরের মালুরি, পানতাই দালাম ও সেগামবুত দালাম এলাকার ১৬টি সন্দেহভাজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে মালুরি থেকে ১৭ জন, পানতাই দালাম থেকে ৫ জন এবং সেগামবুত দালাম থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের কাছাকাছি। তারা বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা বার্নামার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আটক হওয়া অধিকাংশ বিদেশি নাগরিক তাদের কাজের অনুমতিপত্রের (ওয়ার্ক পারমিট) শর্ত ভঙ্গ করে ব্যবসা করছিলেন। বিশেষ করে নির্মাণ খাতের (কনস্ট্রাকশন) ভিসা নিয়ে অনেককে স্থানীয় মুদি দোকান ও খাবারের দোকান পরিচালনা করতে দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসা কার্যক্রম বিদেশিদের দখলে চলে যাওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রশাসন এই অ্যাকশনে নামে।
আইনগত ত্রুটি ও অনিয়মের দায়ে অভিযানে অংশ নেওয়া কোম্পানি কমিশন মালয়েশিয়া (এসএসএম) বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৫টি নোটিশ জারি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত নাম ও নম্বর প্রদর্শন না করা, সাইনবোর্ড না থাকা এবং ব্যবসার সঠিক তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, মূল্য নির্ধারণ এবং ওজন ও পরিমাপ-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন) মোট ৬ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত অর্থদণ্ডসহ ১০টি কম্পাউন্ড জারি করে।
আটককৃতদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় ব্যবসা সুরক্ষায় এবং অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আইন লঙ্ঘনের সাথে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।