
সংগৃহীত ছবি
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা স্মরণকালের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ।
দেশের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সকসারজেন অঞ্চল; সেখানে এককভাবেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় ভোর ৭টা ৩৭ মিনিটে দক্ষিণ ফিলিপাইনে এই ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, এই শক্তিশালী ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোস শহর থেকে মাত্র ৮ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬ দশমিক ২ মাইল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও (ইউএসজিএস) এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ৮ ছিল বলে নিশ্চিত করেছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূকম্পনে পুরো মিন্দানাও অঞ্চল কেঁপে ওঠে এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি, বহুতল ভবন ও রাস্তাঘাট ধসে পড়ে। সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, আকস্মিক এই বিপর্যয়ের কারণে ইতোমধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্গতদের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পরপরই সমুদ্র উপকূলে সুনামি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার থেকে প্রাথমিকভাবে সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছিল, ফিলিপাইনের কিছু উপকূলে ১০ ফুট এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু উপকূলে এক মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। এই সতর্কতার কারণে উপকূলীয় হাজার হাজার বাসিন্দা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সুনামির বড় কোনো ঝুঁকি নেই বলে নিশ্চিত করে সংস্থাটি।
ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকে ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি মৃদু আফটারশক (অনুকম্পন) অনুভূত হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে স্নিফার ডগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উপদ্রুত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দেশটির সরকার।
সূত্র: ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সি