
নিহত সন্তানের ছবি হাতে মায়ের আর্তনাদ। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকার ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর গত শনিবার (৬ জুন) সকালে পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগান থেকে তার নৃশংস মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘ ৭ বছর ওমানে থাকার পর দেড় বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন ফারুক। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই তার প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবন প্রদীপ নিভে গেল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন দুপুরে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওমর ফারুক। শনিবার সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ে লুঙ্গি ও টি-শার্ট পরিহিত এবং হাত-পা বাঁধা একটি মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। দুপুরে বোয়ালখালী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করলে স্বজনরা গিয়ে সেটি ফারুকের বলে শনাক্ত করেন। নিহতের বৃদ্ধ বাবা মো. ওসমান জানান, মরদেহটি অত্যন্ত নৃশংস অবস্থায় ছিল এবং তীব্র গন্ধ বের হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণের দিনই তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়।
নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম জানান, গত ২ জুন ফারুকের সাথে পাশের বড়খোলাপাড়ার এক উপজাতি যুবকসহ আরও তিন যুবক পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তারা সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে অপহরণের শিকার হন। ওই তিন যুবক কোনোমতে পালিয়ে আসতে পারলেও ফারুক আটকা পড়েন। তবে রহস্যজনক কারণে পালিয়ে আসা যুবকরা ফারুকের নিখোঁজ বা আটকে থাকার তথ্য পরিবারকে জানায়নি। এদিকে সন্তান খুনের ঘটনায় চরম ক্ষোভ থাকলেও অজ্ঞাত এক অজানা আতঙ্কে মামলা করতে রাজি নয় নিহতের পরিবার। তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, নিহত ফারুকের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া এলাকায় হলেও মরদেহ বোয়ালখালী থানা সীমানা থেকে উদ্ধার হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা সেখানেই হবে। তবে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বোয়ালখালী পুলিশকে সর্বাত্মক ছায়াতদন্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে।
এদিকে প্রবাসী ফারুকের এমন নির্মম মৃত্যুতে সরফভাটা মীরেরখীল এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরফভাটার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাকে ঘিরে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
শুধুমাত্র গত ৫ আগস্টের পর থেকেই এই এলাকায় অন্তত ১০টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রতিবারই হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বজনরা অজ্ঞাত ভয়ে মামলা করতে সাহস পান না। এই অবস্থায় সরফভাটায় সক্রিয় সন্ত্রাসীদের দমনে জঙ্গল সলিমপুরের মতো যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান দাবি করেছেন ত্রস্ত গ্রামবাসী।










































