মঙ্গলবার । জুন ৯, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ৯ জুন ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিশ্বকাপে বিলি করা হবে ৭০ লাখ কনডম!


condom

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের উত্তেজনা যেখানে মাঠে থাকবে, সেখানে মাঠের বাইরেও থাকবে স্বাস্থ্য সচেতনতার বড় আয়োজন—আর সেই প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত মেক্সিকো।

আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শুধু স্টেডিয়াম, ফ্যান জোন বা ক্রীড়া আয়োজন নয়—জনস্বাস্থ্য নিয়েও বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্যতম স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। যৌনবাহিত রোগ (এসটিআই) প্রতিরোধে বিশ্বকাপের সময় দেশটি প্রায় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন, অর্থাৎ প্রায় ৭০ লাখের মতো কনডম বিতরণের পরিকল্পনা করেছে।

এই কর্মসূচি মূলত মেক্সিকোর তিন স্বাগতিক শহর—মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মন্টেরেই—কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। বিশ্বকাপ চলাকালে এসব শহরে লাখো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, শুধু কনডম বিতরণই নয়, এর সঙ্গে থাকবে সচেতনতামূলক লিফলেটও। এসব লিফলেটে এইচআইভি, সিফিলিস এবং গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকবে।

মেক্সিকোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টের সময় এ ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিমানবন্দর থেকে বার-রেস্তোরাঁ পর্যন্ত প্রচারণা
স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশটির বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং ফ্যান জোনসহ বিভিন্ন স্থানে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে।

মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়ার্ল্ড কাপ হেলথ অপারেশন কমান্ডের একজন সদস্য জানিয়েছেন তারা বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করছেন, যেখানে আগত দর্শনার্থীরা কনডম ও সচেতনতামূলক লিফলেট পাবে। কারণ শুধু কনডম দেওয়া যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে তথ্যও জরুরি।

মেক্সিকো সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে কনডম যৌনবাহিত রোগ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

মেক্সিকোর মতো কানাডার টরন্টোতেও ইতোমধ্যে এ ধরনের সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বাগতিক শহর এখনো একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করেনি।

খেলোয়াড়দের জন্য কি থাকছে কনডম?
বিশ্বকাপে অলিম্পিক গেমসের মতো খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা ‘অ্যাথলিট ভিলেজ’ থাকে না। খেলোয়াড়রা সাধারণত আলাদা আলাদা হোটেল ও ট্রেনিং ক্যাম্পে অবস্থান করেন।

তাই অলিম্পিকের মতো বিশ্বকাপে কনডম বিতরণের কোনো নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নেই। উদাহরণ হিসেবে, অলিম্পিকে ১৯৮৮ সাল থেকে এই ধরনের উদ্যোগ চালু রয়েছে এবং প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে প্রায় ৩ লাখ কনডম বিতরণ করা হয়েছিল।

তবে বিশ্বকাপে ফিফা এমন কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পরিচালনা করে না।

বিশ্বকাপে মূলত কোটি কোটি দর্শক ও পর্যটকের জন্যই জনস্বাস্থ্য সচেতনতামূলক উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প