
ছবি: সংগৃহীত
দেশের মাটিতে ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) মেথডে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছর পর অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে সংস্করণে এই জয়ের দেখা পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। একইসঙ্গে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর গৌরব অর্জন করল টাইগাররা।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলার পর বৃষ্টি হানা দেয়। এরপর খেলা আর মাঠে না গড়ালে ডিএলএস মেথডে ৮৬ রানের জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। প্রায় ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই মিডল অর্ডারে একাই লড়াই করে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলের পক্ষে ৭০ বলে সর্বোচ্চ ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ এবং ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫৪ রানের দুটি চমৎকার ইনিংস খেলেন। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৫ বলে ২০ রানের কার্যকরী ক্যামিওতে লড়াকু পুঁজি পায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নাথান এলিস ৩টি এবং ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট ২টি করে উইকেট নেন।
২৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে ক্যাঙ্গারু বাহিনী। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন গতি তারকা তাসকিন আহমেদ। তার ভেতরে ঢোকা চমৎকার একটি ডেলিভারিতে গোল্ডেন ডাক (০) মেরে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অজি ওপেনার ম্যাথু শর্ট।
পরের ওভারেই বোলিং আক্রমণে এসে ওয়ান ডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেনকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। আম্পায়ার প্রথমে সাড়া না দিলেও অধিনায়ক মিরাজের নেওয়া রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন আম্পায়ার। মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা।
শুরুর ধাক্কা সামলে কুপার কনোলির সঙ্গে জশ ইংলিশ জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও নিজের তৃতীয় ওভারে এসে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিডস্টার নাহিদ রানা। তার দারুণ এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ১৯ রান করে বিদায় নেন ইংলিশ। এরপর অজি উইকেটকিপার ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি ৬২ বলে ৪৭ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালান। তবে তাকেও দুর্দান্ত এক বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী করেন নাহিদ রানা। এরপর ক্যামেরুন গ্রিনের ২২ রান ছাড়া আর কোনো অজি ব্যাটার সুবিধা করতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে আজ রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা; তিনি একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট। এ ছাড়া ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর বল হাতেও চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়ে ২ উইকেট নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাসকিন ও মুস্তাফিজও দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং উপহার দেন।
সবমিলিয়ে ক্যাঙ্গারু বাহিনীর বিপক্ষে ওয়ানডেতে দীর্ঘ ২১ বছরের জয়খরা কাটানোর পাশাপাশি ঘরের মাঠে এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজের রাজকীয় শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।