মঙ্গলবার । জুন ৯, ২০২৬
বিজনেস ডেস্ক বিজনেস ৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত


5-finance-company

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে গভীর সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে খুব দ্রুতই প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

মঙ্গলবার (৯ যুগ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন বলে নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ বা অবসায়নের তালিকায় পড়া এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো— এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে ৩ মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে, এগুলোকেও একই নিয়মে বন্ধের প্রক্রিয়ায় আনা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া এই ৫টি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার সাধারণ গ্রাহকের ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত আটকে রয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ করবে। এরপর নিযুক্ত প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সম্পদ ও দায়-দেনা নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং তা থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের চিত্র ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। খেলাপি ঋণের হার এফএএস ফাইন্যান্সের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। মূলত বিগত বছরগুলোতে চরম অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন ও বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারির কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আলোচিত পি কে হালদার একাই পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও এফএএস ফাইন্যান্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আইসিইউতে থাকা এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী। উচ্চ খেলাপি ঋণ, তীব্র তারল্য সংকট ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এর আগে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করে এই ৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।