
মিশনের চার নভোচারি র্যান্ডি ব্রেসনিক, লুকা পারমিতানো, আন্দ্রে ডগলাস ও ফ্র্যাঙ্ক রুবিও
চাঁদে মানুষের প্রত্যাবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের আর্টেমিস-৩ মিশনের চার সদস্যের ক্রুর নাম ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তবে এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং ভবিষ্যতে চাঁদে নামার প্রস্তুতি হিসেবে মহাকাশেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরীক্ষা ও মহড়া চালাবেন।
মিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন র্যান্ডি ব্রেসনিক। তার সঙ্গে থাকছেন পাইলট লুকা পারমিতানো এবং মিশন স্পেশালিস্ট আন্দ্রে ডগলাস ও ফ্র্যাঙ্ক রুবিও।
কী করবে আর্টেমিস-৩?
মিশনটি যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার শক্তিশালী Space Launch System (এসএলএস) রকেটে করে উৎক্ষেপণ করা হবে। নভোচারীরা যাত্রা করবেন ওরিয়ন মহাকাশযানে, যা গত বছরের আর্টেমিস-২ মিশনেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
তবে এবার ওরিয়ন চাঁদের দিকে যাবে না। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৬৭ কিলোমিটার উচ্চতায় নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করবে মহাকাশযানটি। সেখানে এটি ভবিষ্যতের চন্দ্র অবতরণযানের পরীক্ষামূলক সংস্করণ বা ‘পাথফাইন্ডার’ ল্যান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
এই ডকিং বা সংযুক্তিকরণই হবে মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ ভবিষ্যতে নভোচারীরা চাঁদে যাওয়ার আগে মহাকাশে ঠিক এভাবেই ল্যান্ডারে স্থানান্তরিত হবেন।
নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা
মিশনের সময় অন্তত একজন নভোচারী পরীক্ষামূলক ল্যান্ডারের ভেতরে প্রবেশ করবেন। সেখানে ল্যান্ডারের দরজা, জীবনরক্ষা ব্যবস্থা এবং নতুন প্রজন্মের স্পেসস্যুট পরীক্ষা করা হবে।
এই নতুন স্পেসস্যুট তৈরি করেছে Axiom Space এবং এর নকশা উন্নয়নে কাজ করেছে ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডা। স্যুটটিতে উন্নত শীতলীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় চাঁদের পৃষ্ঠে কাজ করার সময় নভোচারীদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
কেন চাঁদে যাওয়া হচ্ছে না?
প্রথমে আর্টেমিস-৩ কে ১৯৭২ সালের পর প্রথম মানববাহী চন্দ্র অবতরণ মিশন হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু নাসা পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে।
মূল কারণ, স্পেস এক্স-এর তৈরি স্টারশিপ ল্যান্ডার এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে মহাকাশে অবস্থান করে জ্বালানি ভরার যে প্রযুক্তির ওপর স্টারশিপ নির্ভর করছে, সেটি এখনো সফলভাবে প্রদর্শিত হয়নি।
তাই চাঁদে অবতরণের সময়সূচি আরও পিছিয়ে না দিয়ে নাসা প্রথমে মহাকাশে ডকিং, ল্যান্ডারে প্রবেশ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চাঁদে ফেরার লক্ষ্য ২০২৮ সালে
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আর্টেমিস-৪ মিশনে মার্কিন নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। সফল হলে এটি হবে এপোলো-সাত মিশনের পর, অর্থাৎ ৫৬ বছর পর মানুষের প্রথম চন্দ্র অবতরণ।
নাসার কর্মকর্তাদের মতে, আর্টেমিস-৩ সরাসরি চাঁদে না গেলেও এটি ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এই মিশনের সফলতা নির্ধারণ করবে, মানুষ কতটা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে আবার চাঁদে ফিরতে পারবে।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল













































