
ফাইল ছবি
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এবার বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর (ফিফথ ফ্লিট) লক্ষ্য করে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এই পাল্টা হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছিল, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘অ্যাপাচি’ যুদ্ধকালীন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়। এর জবাবে ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে তারা ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। তবে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার বিষয়টি অস্বীকার করে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দাবি করেছেন, মার্কিন হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো হামলা চালায়নি।
মার্কিন হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক দৃঢ়তা ও ধৈর্য পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে।” ওয়াশিংটনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকি এলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দুই প্রান্ত গাজা ও লেবাননেও ইসরায়েলি আগ্রাসন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বিমান ও স্থল হামলায় মঙ্গলবার অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর আগে ইসরায়েল বেশ কয়েকটি এলাকার বেসামরিক বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে হাজার হাজার লেবাননি নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গুরুতর অভিযোগ করে জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ১৬ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি রোগীকে গাজা ছাড়তে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে ইতিমধ্যেই অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার কারণে প্রতিদিন এই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।