
বিশ্বকাপের স্কোয়াড সাধারণত ২৬ জনের হয়। তাই পর্তুগালের দল ঘোষণার পরপরই প্রশ্ন উঠেছে—রবার্তো মার্তিনেজ কেন তবে ২৮ জনকে নিয়ে যাচ্ছেন? বিষয়টা কি শুধু কৌশলগত কোনো বাড়তি সুবিধা? নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ।
আসলে পর্তুগালের স্কোয়াডের কাঠামোটা “২৭+১”। অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ জন নিবন্ধিত খেলোয়াড়ের বাইরে আরও একজন অতিরিক্ত গোলরক্ষক এবং একটি প্রতীকী নাম রাখা হয়েছে। আর সেই কারনেই দলটি নিয়ে এতোসব আলোচনা।
‘+১’ আসলে দিয়োগো খোতা
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ স্কোয়াড ঘোষণার সময় বলেন, এই দলে একটি বিশেষ জায়গা থাকবে প্রয়াত ফরোয়ার্ড দিয়াগো খোতা-র জন্য।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্পেনে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান খোতা। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভাও। মাত্র ১১ দিন আগে বিয়ে করেছিলেন খোতা; রেখে গেছেন স্ত্রী ও তিন সন্তান। মৃত্যুর আগে তিনি পর্তুগালকে নেশনস লিগ জিতিয়ে গেছেন।
তাই মার্তিনেজ স্কোয়াডকে বলেছেন “২৭+১”। শেষ জায়গাটি প্রতীকীভাবে রাখা হয়েছে দিয়েগো খোতার স্মৃতিতে—ড্রেসিংরুমে, টিম বাসে, পুরো যাত্রায়ই যেন তিনি দলের সঙ্গেই থাকেন। মিডফিল্ডার রুবেন নেভেস তো বলেছেনই, “জাতীয় দলে ফিরলে তুমি এখনও আমাদের পাশেই থাকবে।”
তাহলে অতিরিক্ত খেলোয়াড় কে?
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপে নিবন্ধিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা ২৬। কিন্তু পর্তুগাল সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে চতুর্থ গোলরক্ষক রিকারদো ভেলহো-কে।
তিনি মূল স্কোয়াডে নন, তবে জরুরি পরিস্থিতির জন্য দলের সঙ্গে থাকবেন। যদি নিবন্ধিত তিন গোলকিপারের কেউ চোটে পড়েন, তখন ফিফার বিশেষ অনুমতিতে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
মার্তিনেজের যুক্তি পরিষ্কার—এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল আসরগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে ছড়িয়ে থাকা ভেন্যু, দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়ার ভিন্নতা ও সময়ের পার্থক্য—সব মিলিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি দরকার। অতিরিক্ত গোলরক্ষক থাকলে অনুশীলনের মানও ঠিক রাখা সম্ভব হবে।
এই দল কি পর্তুগালের সেরা সুযোগ?
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এবারকার পর্তুগাল স্কোয়াড ভারসাম্যের দিক থেকে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী। সামনে আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া এক কিংবদন্তি। তবে অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষকের ধারণা , দলটির আসল চালিকাশক্তি এই মুহূর্তে ব্রুনো ফারনান্দেজ।
মিডফিল্ডে ব্রুনোর সঙ্গে ভিতিনহা এবং খোয়াও নেভেস -এর সমন্বয়কে কেউ কেউ পুরো টুর্নামেন্টের সেরা মিডফিল্ডও বলছেন। আর আক্রমণে আছে রাফায়েল লিয়াহো, বারনারদো সিলহা, গঞ্চালো রামোসদের মতো তারকা।
তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নও- ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কীভাবে ব্যবহার করবেন মার্তিনেজ? শুরু থেকেই খেলাবেন, নাকি ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ হিসেবে? কারন ভুল সিদ্ধান্ত হলে ক্ষতি হতে পারে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা মিডফিল্ডে।
সংখ্যার চেয়ে বড় বার্তা
তাই পর্তুগালের “২৮ জনের দল” আসলে কেবল বাড়তি সংখ্যা নয়। এর এক অংশ কৌশল, আরেক অংশ আবেগ।
একদিকে বিশ্বকাপের কঠিন বাস্তবতার জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতি, অন্যদিকে প্রয়াত এক সতীর্থকে সঙ্গে নিয়েই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখা। পর্তুগালের এই স্কোয়াডে তাই শুধু ফুটবল নেই—আছে স্মৃতি, দায়বদ্ধতা আর অসমাপ্ত এক গল্পও। তাঁর দেশের কিংবদন্তী রোনালদো বিশ্বকাপ হাতে নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোরডের মেট লাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ হাতে রাউন্ড দেবেন কিনা , হয়তো খোতা তাকিয়ে আছেন উপর থেকে।
বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস