
ফাইল ছবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই নতুন নবম পে-স্কেল নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গন। সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রস্তাবিত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ছায়া বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের রূপরেখা তুলে ধরেছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী জানায়, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম বছরেই নতুন স্কেলের শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করা উচিত। পাশাপাশি দ্বিতীয় বছরে তাদের সব ধরনের ভাতা শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দুই ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে। প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেতন কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর পূর্ণাঙ্গ ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে তৃতীয় বছরে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় টিফিন, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা পুনর্নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে দলটি।
এদিকে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী জুলাই থেকে আংশিকভাবে নতুন কাঠামো চালু করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য সুবিধা ও ভাতা যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত বর্তমান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের আলোচনা চলছে। বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিবেচনায় এককালীন বড় ব্যয় না করে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এক দশকের বেশি সময় ধরে স্থবির থাকা সরকারি বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।