
স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের ভ্যাট অব্যাহতি
জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২০২৭) জন্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এটি।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে কনটেন্ট নির্মাতা, ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য একাধিক কর ও ভ্যাট সুবিধার প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এসব খাতের ওপর বিদ্যমান কিছু ভ্যাট প্রত্যাহার ও অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থানের সময় তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাজেট বক্তব্যের খসড়া অনুযায়ী, বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা বিভিন্ন সেবা এবং তাদের ব্যবহৃত অফিস বা অন্যান্য স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটও মওকুফের প্রস্তাব রাখা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্টার্টআপ খাতের জন্য এসব ভ্যাট সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩৫ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি এই কর-সুবিধা দেশের উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলোর বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, খসড়া বাজেটে কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের প্রদত্ত সেবার ওপর বর্তমানে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ইউটিউবার, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, গ্রাফিক ডিজাইনার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, অনলাইন পরামর্শকসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাধীন পেশাজীবীরা সরাসরি এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্টার্টআপ উদ্যোগ দেশের তরুণদের জন্য আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকারও স্মার্ট অর্থনীতি ও ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট অব্যাহতির এই উদ্যোগকে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।