
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এক অপ্রত্যাশিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশে মৃতদেহ সংরক্ষণের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে এবং এই সংক্রান্ত সেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন প্রস্তাব পেশ করেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ‘মর্চুয়ারি’ আমদানিতে যে ২৫ শতাংশ উচ্চ আমদানি শুল্ক রয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে তা একলাফে কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে।
সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের হাসপাতাল ও ফ্রিজিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মর্চুয়ারি বা লাশ সংরক্ষণের বিশেষ ফ্রিজ আমদানি করা অনেক সাশ্রয়ী হবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ।একই সাথে দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী দেশীয় শিল্পের বিকাশেও বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী খাতের দ্রুত প্রসারের লক্ষ্যে এই শিল্পের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কতিপয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং অন্যান্য কিছু কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এই শুল্ক ছাড়ের প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০৩০ সাল পর্যন্ত বলবৎ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সামগ্রিক অর্থনীতির রূপরেখা তুলে ধরে প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে দেশের সাধারণ মানুষের বড় উদ্বেগের কারণ ‘মূল্যস্ফীতি’ ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি গ্রোথ) ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।