
ফাইল ছবি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ শনিবার (১৩ জুন) বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। বেলা ২টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া এতে ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্টরা। জামায়াতের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে এই সমাবেশকে সফল করার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বস্তরের জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী দেশের সার্বিক সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে গত ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।
সেই ঘোষণা অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহার আগে গত ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জোটের দ্বিতীয় বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষ করে জোটটি আগামী ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে ধারাবাহিক সমাবেশ করবে। এরপর আগামী অক্টোবর মাসে রাজধানীতে একটি বিশাল মহাসমাবেশ করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ও পুশইনের অপচেষ্টার প্রতিবাদে আলাদা কর্মসূচি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। সেই সূচি অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার দেশের সব সীমান্ত এলাকার জেলাগুলোতে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জোটের নেতাকর্মীরা।
সীমান্ত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে এবং এই অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে আগামী সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীতে একটি বৃহৎ প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রামের আজকের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই মঞ্চ থেকে দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ ইস্যুতে জামায়াত আমির বড় কোনো বার্তা দিতে পারেন।