
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বোস্টন পর্যন্ত ৩ হাজার মাইলেরও বেশি পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী ক্রেইগ ফার্গুসন
বিশ্বকাপকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও নেতিবাচক আলোচনার মাঝেও স্কটল্যান্ডের এক তরুণ সমর্থকের অসাধারণ উদ্যোগ সবার দৃষ্টি কেড়েছে। ২২ বছর বয়সী ক্রেইগ ফার্গুসন লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বোস্টন পর্যন্ত ৩ হাজার মাইলেরও বেশি পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন।
পায়ে হেঁটে ১০৯ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষ করে তিনি সময়মতো বোস্টনে পৌঁছেছেন, যেখানে আজ স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে।
তবে ক্রেইগ ফার্গুসনের এই যাত্রার উদ্দেশ্য শুধু ফুটবল ছিল না। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা স্কটিশ অ্যাকশন ফর মেন্টাল হেলথ (এসএএমএইচ)-এর জন্য তিনি ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
ফার্গুসনের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি ব্যক্তিগত গল্পও। কিশোর বয়সে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর বাবা হারানোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের প্রতি তার ভালোবাসাও তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
যাত্রার শেষ দিকে এসে আবেগাপ্লুত ফার্গুসন বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে আমি খুব আবেগপ্রবণ ছিলাম। কারণ এখন উপলব্ধি করছি, পুরো যাত্রাটা সত্যিই শেষ হতে চলেছে। এখানে পৌঁছাতে কতটা পরিশ্রম, কত হাজার মাইল হাঁটা আর কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তা হয়তো কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারবে না।’
পুরো পথ ক্রেইগ ফার্গুসন ঐতিহ্যবাহী স্কটিশ পোশাক ‘কিল্ট’ পরে হেঁটেছেন। শুরুতে এই লক্ষ্য অনেকের কাছে উচ্চাভিলাষী মনে হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাপক জনসমর্থনের কারণে তিনি এক মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হন।
বোস্টনে পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন শত শত স্কটিশ সমর্থক। তার এই উদ্যোগ স্কটিশ সরকারেরও নজর কেড়েছে।
প্রতিদিন ম্যারাথনের চেয়েও বেশি দূরত্ব হাঁটার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফার্গুসন বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে কাজটা শেষ। সাম্প্রতিক সময়ে যে সমর্থন আর ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি ভীষণ গর্বিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংগৃহীত অর্থ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, আমার গল্প শুনে যদি কেউ অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে, কিংবা খারাপ সময় কাটানোর জন্য ঘর থেকে বের হয়ে একটু হাঁটতে যায়, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।’
যাত্রা শেষ হলেও এখন তার মনোযোগ ফুটবলে। স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি উত্তর আমেরিকাতেই থাকবেন। তার ভাষায়, এবার ‘ওয়াকিং ক্রেইগ’কে বিদায় দিয়ে ‘পার্টি ক্রেইগ’-কে সামনে আনার সময়।
ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ফুটবল একটি সার্বজনীন ভাষা। একটি ছোট শিশুর দিকে বল ছুড়ে দিলেই ভাষার বাধা আর থাকে না।’