
দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ফিরেই ইতিহাস গড়ল স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে খেলতে নেমে জয় দিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে ইউরোপের এই লড়াকু দলটি। গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। দলের হয়ে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছেন অধিনায়ক জন ম্যাকগিন।
এই ১-০ গোলের স্বস্তির জয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠে এসেছে স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা। ১৯৯০ সালের ১৬ জুন সুইডেনকে হারানোর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই স্কটল্যান্ডের প্রথম জয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সমানতালে লড়াই চালাতে থাকে। তবে প্রথমার্ধে ম্যাচের একমাত্র ও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় স্কটল্যান্ড। দেশের হয়ে এটি অধিনায়ক জন ম্যাকগিনের ২১তম আন্তর্জাতিক গোল। তবে গোলের সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বের বিচারে এই গোলটিকে স্কটিশ ফুটবলের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোল হজম করার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে হাইতি। বিশেষ করে ডান প্রান্তে লুইসিয়াস ডিডসনের গতিময় আক্রমণগুলো স্কটিশ রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে স্কটল্যান্ড গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানের এক মারাত্মক ভুল থেকে প্রায় সমতা ফিরিয়ে ফেলেছিল হাইতি। তবে সে যাত্রায় দুর্দান্ত এক ডিফেন্সে দলকে বিপদমুক্ত করেন জ্যাক হেন্ড্রি।
এরপর ৪২ মিনিটে জ্যাঁ-রিকনার বেলগার্দে স্কটিশ রক্ষণ ভেঙে জোরালো শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর কিছু আগে উইলসন ইসিদরের একটি বিপজ্জনক হেডও পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে গোলবঞ্চিত হয় হাইতি। প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগে লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডকে দেরিতে স্লাইড ট্যাকল করায় হাইতির বেলগার্দেকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন রেফারি।
অন্যদিকে স্কটল্যান্ডও প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। বেন গ্যানন-ডোক একাধিকবার প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকলেও শেষ পাসটি নিখুঁত না হওয়ায় গোল আসেনি। স্ট্রাইকার চে অ্যাডামসও একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন, তবে অফসাইডের কারণে সেই আক্রমণটি ভেস্তে যায়।
এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে হাইতি। দ্বিতীয়াব্ধের খেলা শুরুর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় হাইতিয়ান ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন স্কটিশ ডিফেন্ডার অ্যারন হিকি। প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয় ভাগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে হাইতির দিকে চলে যায়। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় স্কটিশ ডিফেন্ডারদের।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা ও টানটান উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৮৪ মিনিটে বেলগার্দের চমৎকার এক ক্রস থেকে পিয়েরোর নেওয়া হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বেঁচে যায় স্কটল্যান্ড। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৮৬ মিনিটে স্কটল্যান্ডের স্কট ম্যাকটমিনে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের বড় সুযোগ তৈরি করলেও হাইতির ডিফেন্ডার হ্যানেস ডেলক্রোয়া নিখুঁত এক ট্যাকলে সেই বিপদ সামাল দেন।
শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের দেওয়া প্রথমার্ধের সেই একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কটল্যান্ড।