
সব ম্যাচ দিনের বেলায় না হলেও সমতা বজায় রাখতে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
বিশ্বকাপে চালু হওয়া বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেউ বলছেন এটি খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি, আবার কেউ মনে করছেন এতে খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর এবারের বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধে প্রায় ২২ মিনিটের মাথায় তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করেছে ফিফা। ফলে একটি ম্যাচ কার্যত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক এই নিয়ম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় সব ম্যাচই দেখেছি। প্রতিবার বিরতির সময় সম্প্রচারে বিজ্ঞাপন চলে যাওয়ার বিষয়টি আমার ভালো লাগে না। টিভি দর্শকদের জন্যও এটি খুব একটা উপভোগ্য নয়। তবে যদি আবহাওয়া সত্যিই খুব গরম হয়, তাহলে অবশ্যই এটি দরকার। আমার মতে, প্রতিটি ম্যাচ আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত।’
সব ম্যাচ দিনের বেলায় না হলেও সমতা বজায় রাখতে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমানস বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিষয়টি দুইভাবেই দেখা যায়। কিছু শহরে তেমন গরম নেই, সেখানে হয়তো এই বিরতির প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি কিছু ম্যাচে এটি থাকে, তাহলে সবার জন্যই একই নিয়ম থাকা উচিত।’
‘কুলিং ব্রেক’ নাকি ‘কোচিং ব্রেক’?
হাইড্রেশন ব্রেকের ২০ সেকেন্ড পর সম্প্রচারকারীরা বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে এবং খেলা শুরুর ৩০ সেকেন্ড আগে আবার সরাসরি সম্প্রচারে ফিরতে হয়।
তবে ব্রিটেনের আইটিভি ও স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দোর মতো কিছু প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন না দেখিয়ে খেলোয়াড় ও কোচদের পারস্পরিক আলোচনা সরাসরি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই বিরতি অনেক সময় ম্যাচের গতি ও দলের ছন্দ নষ্ট করে দিতে পারে।
এর একটি উদাহরণ দেখা যায় জার্মানি ও কুরাসাওয়ের ম্যাচে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে কুরাসাওকে সমতায় ফেরান। কিন্তু এর পরপরই হাইড্রেশন ব্রেক হয়। সেই সুযোগে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান খেলোয়াড়দের নতুন নির্দেশনা দেন এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানি ৭-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয়।
তবে অনেক কোচ এই বিরতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া বলেন, ‘আমার কাছে এটি কুলিং ব্রেকের চেয়ে বেশি কোচিং ব্রেক। তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য দল যদি ভালো ছন্দে থাকে, তাহলে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে আমরা এই সময়টাকে কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়ার জন্য খুবই কার্যকর পেয়েছি।’
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও একই মত পোষণ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেন ম্যাচে চারটি কোয়ার্টার পাচ্ছি। কোচদের এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে কিছু বিষয় ঠিকঠাক করে নেওয়া যায়।’
আরও দীর্ঘ বিরতির পক্ষে চিকিৎসকরা
তবে ক্রীড়া চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন মিনিটের বিরতি যথেষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা ও তাপজনিত চাপ বাড়ছে। ফলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ফলে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্ক চললেও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ম্যাচের গতি—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই এখন ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।