
ইরানের কোচ আমির গালেনোই
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ইরানই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধান কোচ আমির গালেনোই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর তিনি অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে, যা দলের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ম্যাচ শেষে গালেনোই জানান, তাদের পরিকল্পনা ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে রাত কাটিয়ে পরদিন অনুশীলন করার। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই দলকে জানানো হয়, অবিলম্বে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অবস্থিত তাদের ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে।
ম্যাচের পর আমাদের বলা হয়েছে, এখনই চলে যেতে হবে, বলেন গালেনোই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জোর করে বিমানে তুলে তিজুয়ানায় পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। একের পর এক বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তবে এসব আমাদের সেরাটা দেওয়ার পথ থেকে সরাতে পারবে না।’
বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ শুরু থেকেই নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে দলটিকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুরো টুর্নামেন্টে ইরানের ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুকসনে। কিন্তু ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মে মাসের শেষ দিকে তারা ক্যাম্প সরিয়ে নেয় মেক্সিকোর তিজুয়ানায়।
নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরান দলের ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে ইরানের কোচিং স্টাফের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পাননি। এছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে ইরানের জন্য বরাদ্দ টিকিট বাতিল করা হলে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে ‘নিরপেক্ষতা, ন্যায়বিচার ও প্রতিষ্ঠিত নিয়ম’ বজায় রাখার আহ্বান জানায়।
আগামী ২১ জুন গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। এরপর ২৭ জুন সিয়াটলে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে প্রতিপক্ষ মিশর।
গালেনোই বলেন, `সত্যি বলতে আমরা জানি না কেন আমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খুবই অদ্ভুত। মনে হচ্ছে, আমাদের হয়ে অন্য কেউ পরিকল্পনা করছে।’
তিনি আরও বলেন, `আমাদের ম্যাচের দুই দিন আগে এখানে আসার কথা ছিল, কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। আজ রাতে এখানে থেকে আগামীকাল ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি।”
তার দাবি, ‘এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত দল সম্ভবত আমরাই। আমাদের ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা এখানে নেই, মিডিয়া নেই, ব্যবস্থাপনার অনেকেই নেই।’
ইরান অধিনায়ক মেহদি তারেমিও কোচের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি পুরো পরিস্থিতিকে ‘দুর্যোগ’ বলে আখ্যা দেন।
তার ভাষায়, ‘এটা আমাদের জন্য যেমন ভালো নয়, ফুটবলের জন্যও ভালো নয়। বিশ্বকাপের মতো আসরে পরবর্তী ম্যাচের জন্য সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ—সবার ওপরই প্রচণ্ড চাপ থাকে।’
তবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ড্রেসিংরুমে এসে তাদের উদ্বেগের কথা শুনেছেন বলে প্রশংসা করেন তারেমি। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ইরান দলকে আরও বেশি সহায়তা করা উচিত ফিফার।
‘আমরা যে ধরনের সমর্থন পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছি না। আমার মনে হয়, ফিফার উচিত আমাদের আরও বেশি সাহায্য করা,’ বলেন ইরান অধিনায়ক।