
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে তথ্যভিত্তিক এবং প্রান্তিক কৃষকরা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন। বুধবার জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সুলভ মূল্যে সার ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি ধান-গম সংগ্রহ এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপনের উদ্যোগও চলছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান জানান, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমির লবণাক্ততা কমানোর মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার নির্মাণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।