
বাংলাদেশ দুতাবাস কাতার
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ শ্রমবাজার কাতারে বসবাসরত প্রবাসী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন থেকে কোনো প্রবাসী কর্মীর রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা বাতিল হলে, তাকে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে কাতার ত্যাগ করতে হবে।
নির্ধারিত এই সময় পার হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থান করলে প্রতিদিনের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক সেমিনারে কাতার বিমানবন্দর পাসপোর্ট বিভাগের ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি এই নতুন নিয়মের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগে রেসিডেন্স পারমিট বাতিলের পর কাতার ছাড়ার জন্য প্রবাসীরা ৩০ দিন পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় পেতেন। তবে নতুন নিয়মে এই সময়সীমা কমিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিন করা হয়েছে।
এই ১৪ দিন পার হওয়ার পরও যদি কোনো প্রবাসী কাতারে অবস্থান করেন, তবে প্রতিদিনের জন্য ১০ কাতারি রিয়াল করে জরিমানা গুনতে হবে। একই সঙ্গে ভিজিট ভিসায় কাতারে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাতারে অবৈধভাবে অবস্থান করলে প্রতিদিনের জন্য ২০০ কাতারি রিয়াল করে জরিমানা করা হবে। তাই প্রবাসীদের পাসপোর্টে থাকা ভিসা স্ট্যাম্পে কত দিন থাকার অনুমতি রয়েছে, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্ধনে যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে ভ্রমণের আগেই প্রবাসীদের ‘মেত্রাশ’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের বর্তমান আইনি অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। ট্রাফিক জরিমানা, অতিরিক্ত সময় থাকার কারণে কোনো বকেয়া জরিমানা বা অন্য কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, তা অ্যাপের মাধ্যমে আগেই দেখে নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া পুরোনো পাসপোর্ট থেকে নতুন পাসপোর্টে রেসিডেন্স পারমিট স্থানান্তরের কাজটিও প্রবাসীরা এই ‘মেত্রাশ’ অ্যাপের মাধ্যমেই ঘরে বসে করতে পারবেন। পাশাপাশি হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে এবং দীর্ঘ লাইন এড়াতে যাত্রীদের ইলেকট্রনিক গেট বা ই-গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য বর্তমানে বিমানবন্দরে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে।
কাতারে প্রবাসী দম্পতিদের নবজাতক সন্তানের ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কাতারে কোনো শিশুর জন্ম হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বাবার স্পনসরশিপের অধীনে শিশুর জন্য দ্রুত রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা নিতে হবে। যথাযথ নিয়ম মেনে রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা করা না থাকলে, ওই নবজাতক একবার কাতার থেকে বাইরে গেলে পরবর্তীতে আর কোনোভাবেই দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবে না।